Tuesday, June 13, 2023

অতিরিক্ত প্রোটিন ডেকে নিয়ে আসে ইউরিক এসিডকে

অতিরিক্ত প্রোটিন ডেকে নিয়ে আসে ইউরিক এসিডকে


মেডিকেল নিউজ প্লাস, 13/06/2023 : মাঝে মাঝে পায়ের পাতায় খুব ব্যথা হয়। পায়ের গাঁটগুলোতে কিংবা পায়ের বুড়ো আঙুলের গাঁটেও ব্যথা হয়। 

রক্ত পরীক্ষা করে অবশ্যই দেখা দরকার শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা কতটা ? ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে গাঁটগুলিতে খুব ব্যথা হয়। ব্যথার জেরে মাটিতে পা ফেলাই দুষ্কর হয়ে ওঠে। জুতোও পায়ে গলানো মুস্কিল হয়। অনেক সময় পা ফুলে ওঠে। জায়গাটা গরম হয়ে যায়, লালচে হয়ে ওঠে। সেটা অবশ্য সেলুলাইটিসের লক্ষণ। 

এখন জানতে হবে ইউরিক এসিড বাড়ে কেন। এখনকার ব্যস্ত জীবন যাত্রায় আমরা এমন অনেক খাবার খাই যে খাবারগুলিতে প্রোটিন অনেক বেশি থাকে। যদি দেহে অধিক মাত্রায় পিউরিন যুক্ত প্রানীজ প্রোটিনের বিশ্লেষন বেশি হয়ে যায় তাহলেই ইউরিক এসিডের মাত্রাও বেড়ে যায়। যেমন যদি অধিক মাত্রায় রেড মিট অর্থাৎ মাটন, ডিম, মেটে ইত্যাদি বেশি খাওয়া হয় তাহলে শরীরে প্রোটিনের মাত্রা অনেকটা বেড়ে যায়। নিয়মিত এই ধরনের খাদ্যাভ্যাস শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। 

ইউরিক এসিড হল রক্তে পাওয়া এক ধরনের রাসায়নিক যা তৈরি হয় যকৃতে। আবার পিউরিন যুক্ত খাবার হজমের সময়ও তৈরি হয়। বিভিন্ন রকম ডাল (মুগ ডালে কম), মাশরুম, পালং শাক, বরবটি, শিম, কলা, আম, সবেদা, খেজুর, আখ, কিসমিস জাতীয় খাবারে পিউরিন অনেক বেশি থাকে। এমনকি বিয়ারেও বেশি থাকে পিউরিন। ইউরিক এসিড রক্তে মিশে গিয়ে কিডনিতে প্রবেশ করে। কিডনি মূত্র হিসেবে দেহ থেকে বের করে দেয়। কিন্তু রক্তে ইউরিক এসিড বেশি থাকলে কিডনি সবটা বের করে দিতে পারে না। তখনই যাবতীয় সমস্যার সূত্রপাত হয়। একে হাইপার ইউরিসেমিযা বলে।

যে সব খাবারে ফাইবার থাকে সেইসব খাবার রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা কমিয়ে কিডনির সাহায্যে শরীরের বাইরে বের করে দেয়। ইসবগুল, ব্রকলি, ওটস, কমলা লেবু, আপেল, নাসপাতি, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, শসা, সেলারি, গাজর, বার্লি, কলা রক্তে এসিড কমাতে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে।

শরীরে ইউরিক এসিড যাতে না বাড়ে তার জন্য নিয়মিত হাঁটা, জগিং করা যেতে পারে। সাইকেল চালানো বেশ কার্যকরী। নাচও ভালো ব্যায়াম। মোট কথা খাদ্যাভ্যাস বদলাতে হবে। বেশি প্রোটিন আছে এমন খাবার খাওয়া চলবে না। ফাইবার যুক্ত খাবার খেতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। শরীরে ইউরিক এসিড ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

Wednesday, November 9, 2022

রাজ্যে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু

রাজ্যে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু


মেডিক্যাল নিউজ প্লাস, ০৯/১১/২০২২ : পশ্চিমবাংলায় বিভিন্ন জেলায় উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ডেঙ্গু। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ডেঙ্গুর মশার পরিমাণ বেড়েছে অনেকটা। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং আলিপুর দুয়ার এই জেলাগুলিতে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। 

দক্ষিণ বঙ্গের হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা,  দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, হুগলী জেলাতে যথেষ্ট বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। খোদ কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে গিয়েছে। কলকাতায় আজ এক আট বছরের বালিকার মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। গতকাল এক গৃহবধূর মৃত্যুও হয়েছিল। সেক্ষেত্রে প্রায় করোনার  মতই  মারাত্মক হতে চলেছে এই ডেঙ্গু রোগটি।

কলকাতায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পথে নেমে কাজ করছে কলকাতা পুরসভা। নিয়ম করে জঞ্জাল সাফাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় ব্লিচিং পাউডার ছড়ানো এবং মশা নাশক তেল স্প্রে করে যাওয়া হচ্চ্ছে। বিভিন্ন রাস্তায় ধোঁয়া দেওয়া হচ্ছে মেশিনের সাহায্যে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ডেঙ্গুর মশাকে রোধ করা সহজ হচ্ছে না; উল্টে হাসপাতালগুলিতে রোগীদের ভীড় যেন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। 

কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম আজ নিজের ওয়ার্ড অর্থাৎ চেতলা অঞ্চলে পথে নেমে প্রচার চালান। নিজে হাতে জঞ্জাল পরিস্কারও করেন। ডেঙ্গু মশার এই বৃদ্ধির জন্যে তিনি অবশ্য গ্লোবাল ওয়ার্মিংকে দায়ী করেছেন। যে কারনে শুধু কলকাতা নয় দেশ এবং বিদেশেও ডেঙ্গুর প্রকোপের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। যদিও কলকাতার এক শ্রেণীর মানুষের অসচেতনতাকেও তিনি দায়ী করেছেন ডেঙ্গু বাড়ার জন্যে। তিনি জানান, কলকাতায় বিভিন্ন নির্মীয়মান বাড়িতে জল জমে থাকতে দেখা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে চায়ের ভাঁড়ে, গাড়ির পরিত্যক্ত চাকায় জল জমে থাকছে যেখান থেকে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। এই ধরনের ঘটনায় প্রয়োজনে আইন বদল করে সংশ্লিষ্ট মানুষদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করার সুপারিশ করেন তিনি। ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার রোধে ফিরহাদ হাকিম সাধারণ মানুষের সচেতনতার ওপরেই বেশি গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ডেঙ্গুর মশা পরিষ্কার জলে বংশ বিস্তার করে এবং এই মশা সাধারণত সকালের দিকেই কামড়ায়। তাই সকলকেই এই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।  সবাইকে সচেতন থাকতে হবে যাতে বাড়ির আশেপাশে আনাচে কানাচে জঞ্জাল এবং জল না জমে যায়।  কোনোভাবেই জমা জলে মশার লার্ভা যাতে বংশবিস্তার করতে না পারে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে।  অনেক সময় বিভিন্ন খানাখন্দে বা গর্তে বৃষ্টির জল জমে গিয়েও মশার বংশবিস্তারে সহায়ক হয়ে ওঠে. তাই বাড়িরই আশেপাশে নজরদারি চালাতে হবে।  

Tuesday, November 8, 2022

অন্তসত্বা মায়েরা সাবধান ! অন্তসত্বা থাকার সময় অতিরিক্ত কফি, চকোলেট এড়িয়ে চলুন

অন্তসত্বা মায়েরা সাবধান ! অন্তসত্বা থাকার সময় অতিরিক্ত কফি, চকোলেট এড়িয়ে চলুন


মেডিক্যাল নিউজ প্লাস, ০৮/১১/২০২২ :  অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা সাবধান ! গর্ভধারনের সময় শরীরে অতিমাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ করলে নবজাতকের উচ্চতা অন্তত এক ইঞ্চি কম হতে পারে বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা। গর্ভের নব জাতকের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে ক্যাফেইন, তাই এই সময়টাতে অতিরিক্ত কফি, চকোলেট বা এমন কোনো খাদ্য যাতে ক্যাফেইন আছে, তা এড়িয়ে চলাই ভালো বলে মনে করছেন গবেষকরা।

বোর্ড স্বীকৃত ওবি-জীন এবং নিউট্রিশন সাপ্লিমেন্ট কোম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা ড: মন্টে স্বরূপ এই বিষয়ে জানাতে গিয়ে বলেন, "অন্তঃসত্বকালীন মায়েদের খুব বেশি পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ করা উচিত নয়।  অবশ্য সারা দিনে সীমিত পরিমাণ ক্যাফেইন গ্রহণ করা যেতেই পারে। সে ক্ষেত্রে সারাদিন খুব বেশি হলে ২০০ মি.লি. ক্যাফেন গ্রহণ করা যায়।"  অর্থাৎ ক্যাফেইন জিনিসটাই গর্ভে থাকা ভ্রুনের ক্ষতি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। 

অন্তসত্বা অবস্থায় গর্ভধারিনী মায়েরা চিকিৎসকদের সংস্পর্শেই থাকেন। মায়ের কেস হিস্ট্রি দেখে চিকিৎসক নানান সতর্কবার্তা দিয়েও থাকেন। কিন্তু এবার এই অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞাও জুড়ে দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আমাদের দেশে কফি খাওয়ার চল অনেকটাই বেড়েছে, তাছাড়া সামনেই আসতে চলেছে শীতকাল। এই সময়টাতেও কফি খাওয়ার অভ্যেস বেড়ে যায় বছরের অন্যান্য সময়ের চাইতে।  তবে শুধু কফি নয়, অন্তসত্বা থাকা র সময় মায়েদের নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত চকোলেট জাতীয় খাদ্য খাওয়ার অভ্যাসও। 

Wednesday, July 14, 2021

মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন থেকে বাঁচুন

মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন থেকে বাঁচুন


মেডিকেল নিউজ প্লাস, 14/07/2021 : আজকাল আমরা সবাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করি, আর এটাও জানি যে মোবাইল ফোনের একটা রেডিয়েশন আছে যা কিনা আমাদের শরীরের পক্ষে বেশ ক্ষতিকর। তা সত্ত্বেও আমরা সারাদিন ধরে মোবাইল ফোন আঁকড়ে থাকি।

মোবাইল ফোনের এই রেডিয়েশন থেকে আমাদের নিস্তার নেই। কিন্তু কিছু নিয়ম পালন করলে মোবাইল ফোনের এই রেডিয়েশন থেকে কিছুটা হলেও আমরা নিজেদেরকে বাঁচাতে পারি। আসুন সেগুলো এবার জেনে নিই। 

প্রথমত, মোবাইল ফোনটিকে শরীর থেকে যতটা সম্ভব দুরে রাখুন। কথা বলার সময় হেড ফোন ব্যবহার করুন। না হলে স্পিকার ফোন ব্যবহার করুন।

দ্বিতীয়ত, একসাথে অনেক্ষন ধরে ফোনে কথা বলবেন না। দরকারে টকিং লিমিট দিয়ে রাখুন, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের পর ফোন আপনা আপনি কেটে যায় । ভয়েস কলের বদলে যতটা সম্ভব টেক্সট মেসেজ করুন। 

তৃতীয়ত, বদ্ধ ঘরে বা ছোট ঘরে দরজা জানলা বন্ধ করে ফোন ব্যবহার না করাই ভাল। এমনকি গাড়ির সব জানলার কাঁচ তুলে দিয়ে বেশিক্ষণ ফোন ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে ফোনের রেডিয়েশন অনেক বেশি ক্ষতি করে।

চতুর্থত, মোবাইলের ব্যাটারি কমজোর থাকলে রেডিয়েশন বেশি থাকে। নেটওয়ার্ক ঠিক নেই, ঠিকমত শোনা যাচ্ছে না, কথা কেটে কেটে যাচ্ছে এমন অবস্থায় খুব প্রয়োজন না থাকলে মোবাইল ব্যবহার না করাই ভাল। 

পঞ্চমত, শিশুদের ওপর মোবাইলের রেডিয়েশন বেশ প্রভাব ফেলে। তাই শিশুদের আব্দার দুরে সরিয়ে রেখে মোবাইল ফোনকেও তাসের থেকে দুরে রাখতে হবে। গর্ভবতী মহিলাদের থেকেও মোবাইল ফোনকে দুরে রাখতে হবে। 

এছাড়া আপনার ফোনের রেডিয়েশন ঠিক কত তা জেনে নিন *#07# এ ফোন করে। এটা হল SAR Value. যা হওয়া উচিত 2.0w/kg.এর কম। অর্থাৎ মানব শরীরের প্রতি কিলোগ্রাম ওজনে কতটা রেডিয়েশন আছে, সেটা বোঝা যায়। ভারতে এই মাত্রা 1.6 এ বাঁধা আছে।অনেকেই আছেন ফোন হারাবার ভয়ে ফোন সব সময় শরীরের খুব কাছে রাখেন অথবা পকেটে রাখেন সব সময়। মোবাইল ফোন সারাদিন শরীরের কাছাকাছি না রেখে যথা সম্ভব দুরে রাখুন। এমনকি রাতে ঘুমোনোর সময় বালিশের নিচে বা বিছানাতেই রাখবেন না। পারলে রাতে মোবাইল ফোনের সুইচ অফ করে রাখুন।

সব রকম ফল একসাথে খাওয়া যায় না কেন ?

সব রকম ফল একসাথে খাওয়া যায় না কেন ?


মেডিকেল নিউজ প্লাস, 14/07/2021 : অনেকেই ফল খেতে বেশ পছন্দ করেন অনেকেই আবার ফলাহার করেন অর্থাৎ ফল খেয়েই পেট ভরিয়ে ফেলেন। কিন্তু জানেন কি সব রকম ফল একসাথে খাওয়া ঠিক নয় ? তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই এবার জেনে নিন ফল খাওয়ার নিয়ম কানুন।

ফল বেশ পুস্টিকর খাদ্য হলেও একসাথে সব রকম ফল খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। ফল খাওয়ার সময় ফলগুলিকে ভাগ করুন তিন ভাগে। মিষ্টি ফল, টক ফল এবং দুটোর কোনোটাই নয় এমন ফল। টক ফলের সাথে মিষ্টি ফল মিশিয়ে খাওয়া উচিত নয়। আঙুর, আপেল, পেযারার সাথে কলা বা কিসমিস খাওয়া ঠিক নয়।

যখন তরমুজ খাবেন তখন শুধু তরমুজই খান, অন্য ফল মিশিয়ে খাবেন না। কারন তরমুজ ফলটিতে জলের ভাগ থাকে অনেক বেশি। ফলে তরমুজ যত তাড়াতাড়ি হজম হবে, অন্য ফল তত তাড়াতাড়ি হজম হবে না। ফলে পেটে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

ফল খাওয়ার সময় সব্জি খাওয়াও উচিত নয়। ফল দ্রুত হজম হয়। সব্জি অনেকটা পরে হজম হয়। আবার ফলে শর্করা বেশি থাকে যা সব্জি হজমের ক্ষেত্রে বাধার কারন হয়ে উঠতে পারে। তাই আপেল খেতে খেতে গাঁজর খাওয়া ঠিক হবে না। এতে গ্যাস, বমিভাব এবং মাথা যন্ত্রণাও অনুভূত হতে পারে।

স্টার্চ আছে এমন খাবারের সাথেও ফল খাওয়া ঠিক নয়। যেমন আলু, ভুট্টা বা পানিফলের সাথে পেয়ারা, আপেল খাওয়া ঠিক নয়। কেননা প্রোটিন জাতীয় খাবার হজম করতে চাই এসিড বেস এবং স্টার্চ জাতীয় খাবার হজম করতে লাগে এলকালাইন বেস। তাই এই দুই রকম খাদ্য একসাথে গ্রহণ করা ঠিক নয়। 

রাতের খাবারে প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া হলে পরের দিন সকালে একটু পেঁপে খান । কারন পেঁপেতে থাকে প্যাপেইন, যা প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে।

Tuesday, July 13, 2021

রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া খুব জরুরী

রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া খুব জরুরী


মেডিকেল নিউজ প্লাস, 13/07/2021 :   ঘুম মানুষের জীবনে অত্যন্ত প্রযোজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ । রাতের বেলায় 6-7 ঘণ্টার নিশ্চিন্ত ঘুম শরীর এবং মনকে সতেজ রাখে। তাই তরতাজা ও কর্মমুখর থাকতে হলে ঠিকমত ঘুম হওয়াটাও খুব দরকার। শরীরকে বিশ্রাম না দিলে শরীর বিদ্রোহ তো করবেই।

অনেকের আবার অনিদ্রা জনিত সমস্যা থাকে। অনেকে রাত জেগে মোবাইল ফোন ঘাঁটেন, কেউ টিভি দেখেন। তাতে চোখ ও মস্তিস্কের ওপর অত্যাচার করাই হয়। ক্ষতি হয় শরীরের।

ঠিকমত ঘুম না হলে শরীরে রক্তচাপ বাড়তে পারে। ক্ষতি হয় নার্ভেরও। হৃত্পিণ্ড এবং মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায় না। এর ফলে হৃদরোগ, হাইপার টেনশন এবং ব্লাড প্রেসারের সমস্যা তৈরি হয়।

অনিয়মিত ঘুমের ফলে শরীরে ইনসুলিন ক্ষরণ কম বেশি হয়। তাতে ইন্সুলিনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে ডায়াবেটিস বা সুগার হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

ঘুম না হলে বা পর্যাপ্ত পরিমানে না হলে শরীরের ভিতরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুম হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শক্তি বেড়ে যায়।

ঘুম কম হলে হৃত্পিণ্ডের সমস্যা বাড়তে পারে। কেননা ঘুম পর্যাপ্ত পরিমানে হলে হৃত্পিণ্ড এবং মস্তিস্কের একাংশ বিশ্রাম পায়। দীর্ঘদিনের অনিদ্রা হৃদরোগ ডেকে আনে।

এছাড়াও ঘুম ঠিকমত না হলে হজমের সমস্যাও হয়। সুতরাং সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম শরীরকে সুস্থ রাখে আর তাই রাত জাগার অভ্যাস থাকলে এখনই তা বর্জন করুন, তা সে কাজের চাপ যতই থাক না কেন।

মোমোতে সাবধান ! রোজ রোজ মোমো খাবেন না

মোমোতে সাবধান ! রোজ রোজ মোমো খাবেন না


মেডিকেল নিউজ প্লাস, 13/07/2021 : মোমো খেতে আমরা সকলেই বেশ ভালবাসি। ভেজ মোমো হোক বা নন ভেজ মোমো হোক, এক বাটি স্যুপ আর চাটনি দিয়ে টিফিন সেরে ফেলতে আমরা এখন অনেক অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। তিব্বতি খানা এই মোমোর চাহিদা এখন এতটাই তুঙ্গে উঠেছে যে রেস্তরাঁগুলো তো বটেই, পাড়ার মোড় বা অলিতে গলিতে গজিয়ে উঠেছে মোমোর দোকান। মোমোর দাম নিয়েও শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। কিন্তু জানেন কি নিয়মিত মোমো খেলে শরীরের কি কি ক্ষতি হতে পারে ? নিয়মিত মোমো খেলে আমদের শরীরে আট রকম ক্ষয়ক্ষতি হওয়র সম্ভাবনা থাকে। কি সেগুলো ? আসুন জেনে নিন - 

1) মোমো যে ময়দা দিয়ে তৈরি হচ্ছে তাতে কিছু কেমিক্যাল মেশানো থাকে। ময়দার সাথে থাকে azodicarbonamide, chlorine gas, benzoyl peroxide ও অন্যান্য কিছু ব্লিচ। এই কেমিক্যালগুলি প্যাংক্রিয়াসের ক্ষতি করে। ডায়াবেটিস নিয়ে আসতে সহায়ক হয়ে ওঠে।

2) মোমোতে যে মাংস ব্যবহৃত হয়, কম দামে দেওয়ার জন্যেই হোক বা ব্যবসায়িক কারণেই হোক, বেশির ভাগ  সময় সেগুলো বাসি মাংসের কিমা করা থাকে। এগুলো সাধারণত টাটকা জাতীয় মাংস দিয়ে তৈরি হয় না।

3) মোমোর মধ্যে যে আনাজ ব্যবহার করা হয়, তা বেশিরভাগ সময় সতেজ থাকে না। নিম্ন গুণমানের হয়। এই আনাজ্গুলিকে ঠিকমত রান্নাও করা হয় না যার ফলে এই আনাজ্গুলো ইকোলি নামক ব্যাকটেরিয়ার আঁতুড়ঘর হয়ে ওঠে। যা কিনা শরীরে নানান ইন্ফেকশন ছড়ায়।

4) লাল লঙ্কা শরীরের পক্ষে ভাল। কিন্তু যখন সেটা পাউডার ফর্মে নিয়ে আসা হয়, তখন কি আর শরীরের জন্যে ভাল থাকে ? রাস্তার ধারের মোমো স্টল থেকে যে চাটনি দেওয়া হয় মোমোর সাথে, সেই চাটনিতে থাকে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি পরিমান মশলা। যাকে শ্পাইসি বলা যায়। এই ধরনের চাটনি শরীরকে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে।



5) মোমোতে ব্যবহার করা হয় এমএসজি (মোনো সোডিয়াম গ্লূকামেট), যা শরীরকে স্থূল করে তলে। এমনকি নার্ভের অসুখের দিকেও নিয়ে যায়।

6) মোমোর মাংসে থাকে নানারকম টেপ ওয়ার্ম। যে কৃমি মস্তিস্কে গিয়েও হামলা চালাতে পারে। যেহেতু মোমোর মাংস রান্না করা হয় না, শুধুমাত্র সিদ্ধ করা হয়, তাই ঐ ওয়ার্ম অতটা গরমেও মরে যায় না। অবশ্য বীফ বা পর্ক মোমোর ক্ষেত্রেই এই ভয়টা বেশি থাকে। তবে মোমোর ভিতরে থাকা বাঁধাকপি থেকেই টেপ ওয়ার্ম শরীরে চলে যেতে পারে এবং মস্তিস্কে গিয়ে বাসা বাঁধতে পারে।

7) মোমো একটি তিব্বতি খাবার। ঠান্ডার দেশ তিব্বতে মোমো খেয়েও গা গরম করা যায়। ভারতের মত গরম দেশে মোমো খেলে অতিরিক্ত শরীর গরম হয়ে যায়। 

8) আমাদের দেশে কিছু জায়গায় দেখা গিয়েছে মোমোর মধ্যে কুকুরের মাংস কিমা করে দিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ক্রেতার পক্ষে বুঝে ওঠা সম্ভব নয়। 

তাই মোমো অবশ্যই উপভোগ করুন, কিন্তু দেখে নিন যে দোকান থেকে মোমো কিনবেন সেখানকার হাইজিনিক পরিবেশ যেন ভাল হয়। এছাড়াও নিয়মিত না খেয়ে অনিয়মিত মোমো খাওয়াই ভাল।

Monday, March 8, 2021

চোট আঘাত অনেক সময় খেলোয়াড়দের বসিয়ে দেয় সাইডলাইনের ধারে

মেডিকেল নিউজ প্লাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ০৯/০৩/২০২১ : খেলোয়াড়দের জীবনে চোট  আঘাত প্রায়ই লেগে থাকে। তা সে যে কোনো খেলাই হোক না কেন। তবে এমন কিছু কিছু চোট আঘাত মাঝে মধ্যে খেলোয়াড়দের জীবনে আসে, যা বেশ কিছুদিনের জন্যে সেই খেলোয়াড়কে সাইড লাইনের ধরে বসিয়ে রাখতে বাধ্য করে। কি করবেন এই  ধরনের সমস্যায় ?  জেনে রাখুন, কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ। বলছেন মেডিকা স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের প্রখ্যাত চিকিৎসক পুস্পকেতু কোনার।

সৌজন্যে : মেডি টিপস 

কেমন ছিল আজকের মহিলা ডাক্তারদের ডাক্তার হওয়ার দিনগুলো ?

মেডিকেল নিউজ প্লাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ০৮/০৩/২০২১ : আমাদের চারপাশে আমরা অনেক ডাক্তার দিদিমনিকে দেখতে পাই; একটা সময় ছিল যখন লেডি ডাক্তারের কথা আমাদের সমাজ ভাবতেই পারতো না; কাদম্বিনী দেবী ছিলেন প্রথম বাঙালি মহিলা ডাক্তার। তবে সেকালে মহিলা ডাক্তার হতে গিয়ে অনেক  গঞ্জনা স্বীকার করতে হয়েছিল তাঁকে। আজ যাঁরা মহিলা ডাক্তার আমাদের সেবা করে চলেছেন প্রতিদিন,  কেমন ছিল তাঁদের ডাক্তার হয়ে ওঠার দিনগুলো ? আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সেই সব মহিলা ডাক্তারদের কুর্নিশ জানিয়ে আমাদের আজকের প্রতিবেদন। 

সৌজন্যে : মেডি টিপস কেমন ছিল; 

Tuesday, March 2, 2021

জেনে নিন স্ট্রোক হলে কি করবেন

মেডিকেল নিউজ প্লাস, ০২/০৩/২০২১ : স্ট্রোক শব্দটা শুনলেই মনের মধ্যে একটা আতঙ্ক বাসা বাঁধে। কারোর স্ট্রোক হয়েছে শুনলেই আত্মীয় পরিজনদের মুখ শুকিয়ে যায়. আজকের এই পারবে আমরা মেডিকেল নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক শোভনার থেকে শুনে নেব  স্ট্রোক আসলে কি ? ঠিক ক করতে হব্ যদি বোঝা যায় কারোর স্ট্রোক হয়েছে ? কি ধরনের তাৎক্ষণিক কাজগুলি করা উচিত যদি দেখি আমাদের আশেপাশে কেউ স্ট্রোক বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

সৌজন্যে : মেডি টিপস 

Wednesday, November 4, 2020

এবার অনিদ্রা রুখতে আয়ুর্বেদের প্রয়োগ করা হবে ভারতে

এবার অনিদ্রা রুখতে আয়ুর্বেদের প্রয়োগ করা হবে ভারতে


মেডিকেল নিউজ প্লাস (বাংলা), নতুন দিল্লী, ভারত,  ০৪/১১/২০২০ :  প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা চোখ বন্ধ করে রাখা অথবা সুন্দর একটি ঘুমের থেকে বঞ্চিত হওয়ার প্রতিকূল প্রভাব সম্বলিত বিভিন্ন ঘটনা আমরা প্রায়শই শুনতে পাই। ঠিকমতো ঘুম না হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ও স্থুলকায় হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। এই অনিদ্রার সমস্যার সমাধান ভারতের চিরায়ত চিকিৎসা শাস্ত্র- আর্য়ুবেদে পাওয়া গেছে বলে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

শিলং-এ নর্থ ইস্টার্ন ইন্সটিটিউট অফ আর্য়ুবেদ অ্যান্ড হোমিওপ্যাথির থেকে প্রকাশিত আয়ুহোম-এ অনিদ্রা জনিত সমস্যার সমাধান সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। জয়পুরের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ আর্য়ুবেদের পঞ্চকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তর শাখার অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর গোপেশ মঙ্গল এই নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। এ কাজে তাঁকে ওই সংস্থার দুই গবেষক নিধি গুপ্ত এবং প্রবেশ শ্রীবাস্তব সাহায্য করেছেন। 

আর্য়ুবেদের পঞ্চকর্ম থেরাপির মাধ্যমে অনিদ্রা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তারা সাফল্যর সন্ধান পেয়েছেন। এ সংক্রান্ত গবেষণায় দেখা গেছে অশ্বগন্ধার সঙ্গে শিরোধারা প্রয়োগ করে শমন চিকিৎসার মাধ্যমে অনিদ্রা জনিত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। 

Tuesday, September 15, 2020

দেশে দীর্ঘ লক ডাউনের ফলে বেড়েছে মানসিক সমস্যা

দেশে দীর্ঘ লক ডাউনের ফলে বেড়েছে মানসিক সমস্যা


মেডিকেল নিউজ প্লাস, ১৫/০৯/২০২০ : করোনা মহামারীর আবহে দীর্ঘদিন ধরে লক ডাউন চলার কারণে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে মানসিক সমস্যা বেড়েছে বলে মনে করছে কেন্দ্র সরকার, সেই কারণে বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও ভাবা হয়েছে। 

সাধারণ মানুষ ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কোভিড-১৯-এর প্রভাবের বিষয়টিকে উপলব্ধি করে  কেন্দ্রীয় সরকার কোভিড-১৯-এর সময় সকলের মানসিক জোর বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে - ২৪X৭ হেল্পলাইন; মানসিক সমস্যা মোকাবিলার নীতি-নির্দেশিকা / পরামর্শ জারি; একাধিক গণমাধ্যমে মানসিক অবসাদ দূর করার উপযুক্ত পরামর্শ; ব্যাঙ্গালোর নিমহ্যানস প্রতিষ্ঠান মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টির ক্ষেত্রে বিস্তারিত নীতি-নির্দেশিকা জারি করেছে। এছাড়াও মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার জন্য নীতি-নির্দেশিকা, পরামর্শ ও মানসিক চাপ দূর করার নানা পন্থাপদ্ধতি প্রকাশ করেছে।

মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার ক্ষেত্রে পেশাদারদের অভাব একটি বড় সমস্যা। চলতি বছরে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরামর্শদাতাদের রাজ্যওয়াড়ি বিবরণ কেন্দ্রীয় স্তরে রাখা হয়নি। অবশ্য, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় কেন্দ্রীয় সরকার মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের সহায়তায় একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২৫টি উৎকর্ষকেন্দ্র স্থাপনের জন্য এবং ৪৭টি স্নাতকোত্তর পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের জন্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার মানবসম্পদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এমনকি, একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বা স্নায়বিক বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানগুলিতে কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর কাজ চলছে।

রাজ্যসভায় আজ এক লিখিত জবাবে এই তথ্য দেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শ্রী অশ্বিনী কুমার চৌবে।

Monday, September 14, 2020

ভারতে এই প্রথমবার ওপেন হার্ট অপারেশন ছাড়াই হার্টের দুটি ভালব সফলভাবে বদলে দেওয়া হল

ভারতে এই প্রথমবার ওপেন হার্ট অপারেশন ছাড়াই হার্টের দুটি ভালব সফলভাবে বদলে দেওয়া হল


মেডিকেল নিউজ প্লাস, ১৪/০৯/২০২০ : ভারতবর্ষে এই প্রথম ওপেন হার্ট অপারেশন ছাড়াই হার্টের দুটি ভালবই বদলে দেওয়া গেল। এই অসাধ্য সাধন করা হয়েছে ডক্টর রবীন্দ্র সিং রাওয়ের তত্বাবধানে। ডক্টর রাও  একজন ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট এবং স্ট্রাকচারাল হার্ট ডিজিজ বিশেষজ্ঞ।

ভারতে প্রথমবার এই  ধরনের অপারেশন করা হল রাজস্থানের জয়পুরের ইটার্নাল হাসপাতালে। হৃৎপিণ্ডের দুরূহ অসুখ নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৫৫ বছর বয়সী এক প্রৌঢ়।  তিনি কানাডার বাসিন্দা হলেও আদতে তিনি চন্ডিগড়ের মানুষ। TAVI -র ডিরেক্টর ডক্টর রায় তাঁর কেস হিস্ট্রি দেখে হৃৎপিণ্ডের দুটি ভালব বদলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু এই ধরনের জটিল অপারেশন এর আগে আমাদের দেশে কখনো হয় নি। অভয়  দেন ডক্টর রাও। 

চন্ডিগড়ে নিজের বাড়িতেই ওই প্রৌঢ়ের হার্ট এটাক হয়েছিল। তাঁর হার্টের দুটি ভালব  খুব সরু হয়ে গিয়েছিল। যার জন্যে তিনি ঠিকমত নিঃশ্বাস  নিতে পারছিলেন না। এমনকি কোনো ওষুধ কাজ করছিল না। প্রাথমিকভাবে তাঁকে চন্ডিগড়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু বিশেষ কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। এরপর ডক্টর রাও  তাঁকে দুটি ভালব বদলে নেওয়ার পরামর্শ দেন এবং বড় কোনো অপারেশন ছাড়াই ওই প্রৌঢ়ের হৃৎপিণ্ডের দুটি ভালব  (Mitral & Aortic) সফলভাবে বদলে দেওয়া হয়।

ওই প্রৌঢ় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে ঠিকমত শ্বাস নিতে পারছিলেন না, ঠিক মত চলাফেরা করতে পারছিলেন না।সাধারণত এই ধরনের অসুবিধায় ওপেন হার্ট সার্জারি করতে হয়।  কিন্তু এই ক্ষেত্রে বড় কোনো অপারেশন ছাড়াই হার্টের দুটি ভালব  বদলে দিয়ে নাজির গড়লেন ডক্টর রাও।  ভারতবর্ষে এই ধরনের অপারেশন এই প্রথমবার করা হল। ওই প্রৌঢ়  এখন অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন। 

Sunday, August 23, 2020

দেশে এখন প্রতিদিন ৮ লক্ষেরও বেশি করোনা নমুনা টেস্ট করা হচ্ছে

দেশে এখন প্রতিদিন ৮ লক্ষেরও বেশি করোনা নমুনা টেস্ট করা হচ্ছে

মেডিকেল নিউজ প্লাস (বাংলা), ২৪/০৮/২০২০ : জানুয়ারি মাসে দেশে একমাত্র পুণেতে একটি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হ’ত। গত ৬ দিন ধরে ৮ লক্ষেরও বেশি দৈনিক নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এর ফলে, মোট ৩.৫ কোটিরও বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৮ লক্ষ ১ হাজার ১৪১টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। 

সমন্বিত উদ্যোগের কারণে প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষার হার বাড়ছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে এই হার ঊর্ধ্বমুখী। ‘টেস্ট, ট্র্যাক ও ট্রিট’ নীতি অবলম্বন করে আজকের হিসাবে প্রতি ১০ লক্ষ জন পিছু ২৫ হাজার ৫৭৪টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর ফলে, সংক্রমিতদের দ্রুত সনাক্ত করে তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুসারে, দেশে ৯৮৩টি সরকারি এবং ৫৩২টি বেসরকারি পরীক্ষাগারে অর্থাৎ মোট ১ হাজার ৫১৫টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে।

এর মধ্যে ৪৫৮টি সরকারি এবং ৩২২টি বেসরকারি অর্থাৎ মোট ৭৮০টি পরীক্ষাগারে রিয়েল টাইম আরটিপিসিআর পদ্ধতিতে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। ৪৯১টি সরকারি এবং ১২৬টি বেসরকারি অর্থাৎ মোট ৬১৭টি পরীক্ষাগারে ট্র্যুন্যাট পদ্ধতিতে এবং ৩৪টি সরকারি ও ৮৪টি বেসরকারি অর্থাৎ মোট ১১৮টি পরীক্ষাগারে সিবিন্যাট পদ্ধতিতে নমুনাপরীক্ষা হচ্ছে।


সিজন চেঞ্জ হচ্ছে, এই সময় একটু সাবধানে থাকুন

সিজন চেঞ্জ হচ্ছে, এই সময় একটু সাবধানে থাকুন

মেডিকেল নিউজ প্লাস (বাংলা), ২৪/০৮/২০২০ : বর্ষাকালের শেষ, এবার ভাদ্র মাসের পালা। ভদ্র মাসের পচা  গরম কেটে গেলেই রাজ্যের আবহাওয়ায় আসবে মৃদু শীতের পরশ। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে কিছু নিয়ম মেনে চললেই শরীরের যত্ন নেওয়া যাবে। খাদ্যাভ্যাসেও আনতে হবে পরিবর্তন। 
আষাঢ়  শ্রাবন মাস শেষ, অর্থাৎ বর্ষাকালের শেষ। অন্তত ক্যালেন্ডারের নিয়ম অনুযায়ী তো বটেই। এখন চলছে ভাদ্র  মাস। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে যেভাবে নিম্ন চাপ বেড়ে চলেছে, তাতে করে ,মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েই  চলেছে রাজ্যজুড়ে। তবু ভাল ব্যাপার হল এটাই যে, ভাদ্র মাস হলেও বাতাসে কিন্তু সেই তপ্তভাবটা এখন আর নেই। মাঝে মধ্যে যে গরম একেবারেই পড়ছে  না তা নয়। কিন্তু সেটা শুধুমাত্র দুপুরের দিকে কয়েক ঘণ্টার জন্যে। 
এখন থেকেই একেবারে ভোরের দিকে বাতাসে খুব সামান্য হলেও ঠান্ডা একটা শিরশিরানি ভাব চলে এসেছে। পাখার গতিবেগ যেন একটু কম হলেই ভাল হয়, এমন একটা  ভাব কিন্তু এসে গিয়েছে। তার সাথে রয়েছে রোজ দু'পশলা করে বৃষ্টি,  তাই এই মুহূর্তে তাপমাত্রা বেশ কিছুটা কম থাকছে। গোটা দিনের মধ্যে তাপমাত্রার এই তারতম্যই কিন্তু বিপদ ডেকে আনতে পারে। কেননা এবার যত  দিন এগোবে বাতাসে তাপ কমতে থাকবে, শীতের একটা ছোঁয়া লেগে থাকবে। তাই অসুবিধা না হলে রাত্রে ঘুমোনোর সময় গায়ে একটা হালকা চাদর দিয়ে ঢেকেই শোয়া উচিত হবে।
শরৎকাল এমন একটা ঋতু  যে সময়ে খাবারের মধ্যে শাকসবজি জাতীয় খাদ্য বেশি খেলে ভাল হয়। ঝিঙে, পটল, কুমড়ো বা ডাঁটা জাতীয় খাবার খেলে ভাল হয়। এর সাথে খাবারের তালিকায় রাখা উচিত হবে দুধ বা দই। এই সময়টায় ফল খাওয়াও উচিত হবে। এই সময়টায় ক্ষিদে বেশি পেতে পারে, গা ম্যাজম্যাজ করতে পারে। সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। এই সময় বৃষ্টিতে ভেজা বিপদ ডেকে আনতে পারে। এই সময়টায় মাংস বা রিচ ফুড একটু এড়িয়ে চলুন।
এই মুহূর্তে গোটা দেশেই করোনা মহামারীর আবহ রয়েছে। যদিও ভারত সরকার ঘোষণা করেছে চলতি বছরের মধ্যেই কোরোনার প্রতিষেধক ভারত বাজারে এসে যাবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, সেই প্রতিষেধক এখনো কিন্তু বাজারে আসে নি। তাই যতক্ষন না প্রতিষেধক এসে যাচ্ছে, ততক্ষণ কোরোনার হাত থেকে রেহাই পেতেই হবে। তাই সব রকম স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই পালন করতে হবে। যেমন মুখে মাস্ক পড়তেই হবে। হাত বার বার সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।অযথা মুখে বা চোখে হাত দেওয়া চলবে না। হাতে নিয়মিত স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে ইত্যাদি। এই সময়টায় মশার আক্রমন থেকেও নিজেকে বাঁচাতে হবে, কেননা ডেঙ্গুর ভয়টা এখনো থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত শিশুদের জন্যে। 

সুস্থ থাকতে হলে করলা আর উচ্ছে খাওয়ার অভ্যাস করুন

সুস্থ থাকতে হলে করলা আর উচ্ছে খাওয়ার অভ্যাস করুন

মেডিকেল নিউজ প্লাস (বাংলা), ২৪/০৮/২০২০ :  সুস্থ থাকতে কে না চায় ! কিন্তু নিজেকে সুস্থ রাখার জন্যে চাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস। আর সেই খাদ্য তালিকায় অবশ্যই রাখতে হবে করলা  এবং উচ্ছের মত সবজিকে।

এবার জেনে নিন করলা  আর উচ্ছে কিভাবে বিভিন্ন রোগ থেকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে -
১) করলার পাতা শরীরে মূত্র বৃদ্ধি করে. কৃমি বিনাশ করে এবং জ্বর কমাতে সাহায্য করে। ওষুধ হিসেবেও করলার অনেক গুন্ রয়েছে। 
২) বিখ্যাত প্রাচীন বৈদ্যরাজ সুশ্রুত বলেছেন, করলার পাতা জোলাপের মত কাজ করে, আবার প্রয়োজন হলে বমি করতেও সাহায্য করে। 
৩) করলা পাতার রস লবন মিশিয়ে খাইয়ে দিলে রোগীর পিত্তের বিষ বমি এবং মলত্যাগের দ্বারা নির্গত হয়ে যায়।
৪) ম্যালেরিয়া হলে করলা পাতার রস শরীরে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া সাড়ে তিনটি করলার পাতা এবং তিনটি আস্ত গোলমরিচ একসঙ্গে পিষে নিয়ে নিয়ম করে খেলে ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়।
৫) অনেক সময় অম্লপিত্তের কারণে ভাত খাওয়ার পরেই অনেকের বমি পায়, সেইসব ক্ষেত্রে করলার ফুল বা পাতা ঘিয়ে ভেজে অথবা কাঁচা অবস্থায় লবন মিশিয়ে খেলে বেশ উপকার পাওয়া সম্ভব।
৬) তিনটি করলার বিচি এবং তিনটি গোলমরিচ একসঙ্গে অল্প জলে মিশিয়ে খেলে বাচ্ছাদের বমি বন্ধ হয়। তবে সেক্ষেত্রে পরপর ছয় দিন খাওয়াতে হবে।
৭) দশ চা চামচ করলা পাতার রসে একটু হিং মিশিয়ে খাওয়ালে প্রস্রাব পরিস্কার হয়ে যায়। কোনো কারণে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে এটা ওষুধ হিসেবেও প্রয়োগ করা যায়। 
৮) কচি করলা টুকরো করে কেটে, ছায়ায়  শুকিয়ে নিয়ে মিহি করে পিষে চার মাস ধরে সকালে ও সন্ধ্যেবেলায় নিয়মিত দুই চামচ করে এই চূর্ণ খেলে ডায়াবেটিস বা ব্লাড সুগার সারবে। সেই সঙ্গে অবশ্যই ডায়াবেটিস বা সুগার হওয়ার দরুন খাওয়া দেওয়ার বিধি নিষেধ মেনে চলতে হবে। এইভাবে রোজ খেয়ে গেলে শরীরে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
৯) করলার রস এক চামচ নিয়ে তাতে অল্প একটুখানি  চিনি মিশিয়ে নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস করলে অর্শ  বা অর্শ  থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যাবে।
করলা এবং উচ্ছে একই রকমভাবে কাজ করবে। নিয়মিত ভাতের সাথে করলা বা উচ্ছের মত সবজি দিয়ে তরকারি খাওয়া শরীরের পক্ষে বেশ উপকারী। চিকিৎসকেরাও ব্লাড সুগারের রোগীদের ক্ষেত্রে করলা বা উচ্ছে খাওয়ার ওপর জোর দেন।

কৃতজ্ঞতা : ডক্টর সঞ্জীবন বসু 

জেনে রাখুন, ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে পালস চেক করবেন

জেনে রাখুন, ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে পালস চেক করবেন

মেডিকেল নিউজ প্লাস (বাংলা), ২৪/০৮/২০২০ : বর্তমানে শরীর খারাপ করলেই নানারকম টেস্ট করতে হয়, ইউরিন টেস্ট, স্টুল টেস্ট, সুগার টেস্ট, ব্লাড টেস্ট, প্রেসার চেক ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমেই অসুস্থ ব্যক্তির 'পালস' ঠিক আছে কিনা তা দেখা উচিত। একটা সময় ছিল যখন  চিকিৎসকেরা শুধুমাত্র নাড়ি দেখেই অনেক কিছু বলে দিতে পারতেন। তাই এই নাড়ি দেখার বিষয়টি যদি একটু জেনে রাখা যায়, তাহলে হঠাৎ করে পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসক এসে পৌঁছনোর আগেই পালস দেখে রাখতে পারলে, তাঁকে অন্তত জানানো যাবে যে তিনি এসে পৌঁছনোর আগে পর্যন্ত পালস রেট কেমন ছিল। এতে চিকিৎসকেরও বুঝতে সুবিধা হবে।  

অসুস্থ ব্যক্তির পালস বুঝতে গেলে তাঁর হাতের কব্জির নিচের দিকে নাড়ির ওপর আঙুলের তর্জনী, মধ্যমা  এবং অনামিকা দিয়ে আলতো চাপ দিতে হবে। তাহলেই অসুস্থ ব্যক্তির নাড়ির স্পন্দন কেমন তা সহজেই বুঝতে পারা যাবে। আগেকার দিনে চিকিৎসকেরা নাড়ির ওপারে রাখা আঙুলগুলি দিয়েই অসুস্থতার অনেক কিছু টের পেয়ে যেতেন। তর্জনী দিয়ে তাঁরা বায়ু বুঝতে পারতেন, মধ্যমা দিয়ে তাঁরা পিত্ত সম্পর্কে বুঝতেন এবং অনামিকা দিয়ে তাঁরা বুঝতেন রোগীর কফের গতি।এরপর তাঁরা চিকিৎসা শুরু করতেন। 

শরীরে বায়ুর আধিক্য থাকলে নাড়ি চলবে বক্রভাবে। পিত্তের আধিক্য বেশি হলে নাড়ি চলবে চঞ্চলভাবে। কফের আধিক্য থাকলে নাড়ির গতি হবে স্থির। যদি বায়ু ও পিত্তের উভয় সমস্যাই থাকে তাহলে নাড়ি চলবে কখনো বক্রভাবে আবার কখনো চঞ্চলভাবে। বায়ু এবং কফ একসাথে থাকলে নাড়ি কখনো বক্রভাবে চলবে আবার কখনো কখনো স্থির হয়ে আসবে। যদি দেখা যায় নাড়ি কখনো বক্র, কখনো চঞ্চল আবার কখনো স্থির হয়ে আসছে, তাহলে বুঝতে হবে রোগীর তিনটি সমস্যাই রয়েছে।

যিনি নাড়ি পরীক্ষা করবেন তাঁকে ধীর এবং স্ত্রীর থাকতে হবে এবং নাড়ির প্রকৃত প্রকৃতি তাঁকে ধরতে হবে। অভিজ্ঞাতা অর্জনের জন্যে পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তির বিভিন্ন সময়ে নাড়ি  পরীক্ষা করলে অভিজ্ঞাতা বাড়তে পারে। এখানে যে আলোচনা করা হচ্ছে, তা নিতান্তই ঘরোয়া উপায়। কেননা এখন পালস বা নাড়ি  দেখার জন্যে অনেক রকম আধুনিক যন্ত্রপাতি বাজারে এসে গিয়েচ্ছে। তবে প্রেশার চেক করার যে ডিজিটাল ডিভাইস বা  অক্সিমিটার রয়েছে তাতে পালস রেট বোঝা সম্ভব। কিন্তু পালস বা নাড়ির  প্রকৃতি বোঝা সম্ভব নয়। অনেক সময় হয়ত সামান্য অসুস্থতা হয়েছে, যার জন্যে হয়ত ডাক্তারকে ডাকাও হচ্ছে না, সেসব ক্ষেত্রে কিন্তু ঘরোয়া উপায়ে নাড়ি  দেখতে জানার অভিজ্ঞতা কিন্তু বেশ কাজে দিতে পারে। 

এবার দেখে নেওয়া যাক বিভিন্ন বয়সে নাড়ির  গতি কেমন থাকা উচিত ? 

১ বছর বয়স পর্যন্ত - প্রতি মিনিটে ১৩০ - ১৪০ বার

১ থেকে ২ বছর বয়স পর্যন্ত - মিনিটে ১১৫ থেকে ১৩০ বার 

২ বছর থেকে ৩ বছর পর্যন্ত - মিনিটে ১০০ থেকে ১১৫ বার

৩ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত - মিনিটে ৮৫ থেকে ৯০ বার

১৫ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত - মিনিটে ৮০ থেকে ৮৫ বার

৫১ থেকে ৭৫ বছর পর্যন্ত - মিনিটে ৫০ থেকে ৬৫ বার

একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে কোনো কোন সময় নাড়ি  পরীক্ষা করতে নেই - 

১) রোগী যদি বেশ ক্ষুধার্ত থাকে তাহলে তাঁর নাড়ি  পরীক্ষা করতে নেই

২) খাবার খাওয়ার সময় বা তার ঠিক পরেই নাড়ি পরীক্ষা করা উচিত নয়

৩) তেল মাখার পরক্ষণেই নাড়ি  পরীক্ষা করা ঠিক নয়

৪) রোগী যদি প্রখর রোদ  থেকে তেতেপুড়ে আসেন তাহলে তখনই তাঁর নাড়ি  পরীক্ষা করা ঠিক নয়

৫) সময় ব্যতিরেকে -  একজন সুস্থ মানুষের নাড়ির গতি সময় ব্যতিরেকে পরিবর্তনশীল হতে পারে। যেমন, সকাল বেলায় একরকম আবার গ্রীষ্মের দুপরে আর এক রকম, আবার রাত্রিবেলায় আর এক রকম, এরকমও হতে পারে। তাই যিনি নাড়ি  পরীক্ষা করবেন, তাঁকে এই বিষয়গুলিও বিবেচনায়  রাখতে হবে।

Thursday, July 23, 2020

আপনার হাতঘড়ি খুঁজবে করোনা, নতুন আবিস্কার ভারতের

দেশ

মেডিকেল নিউজ প্লাস,  নাগপুর, মহারাষ্ট্র, ২৩/০৭/২০২০ : আপনার আশেপাশে কে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আর কেই বা করোনা ভাইরাসের জন্যে সন্দেহজনক ব্যক্তি তা নিখুঁতভাবে জানার জন্যে এবার বাজারে আসছে নতুন একধরনের অত্যাধুনিক রিস্ট ব্যান্ড। 
নাগপুরের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্স, যোধপুর আই আইটি এবং নাগপুরের আইআইটি যৌথভাবে এই রিস্ট ব্যান্ড তৈরি করেছে। খুব শীঘ্রই এই রিস্ট ব্যান্ড বাজারে আসতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। সাধারণভাবে আমাদের দেশে করোনা আক্রান্ত মানুষদের খুঁজে বের করতে যে মোবাইল এপ্লকেশনগুলি এই মুহূর্তে কাজ করছে নতুন আবিষ্কৃত ডিভাইসটি সেগুলির থেকে অনেক উন্নত।
নতুন এই ডিভাইসটি কাজ করবে দুটি জিনিসের ওপর ভিত্তি করে। প্রথমটি হল নিরবিচ্ছিন্ন নেট কানেকশান এবং যে সব করোনা আক্রান্ত রোগীরা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে বসে মোবাইলে নেট ঘাঁটছেন, সেগুলিকে ভিত্তি করে। বর্তমানে  যে সব মোবাইল এপ্লিকেশনগুলি রয়েছে সেগুলি মোবাইলের জিপিএস বা টাওয়ার লোকেশন ট্রায়াঙ্গুলেশান প্রক্রিয়াকে ভিত্তি করে আপনার দেড় বা দুই কিলোমিটারের মধ্যে থাকা করোনা আক্রান্ত বা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের খোঁজ দিতে পারে। 
কিন্তু সেক্ষেত্রে সেইসব মানুষ নিজেকে কিভাবে সেইসব এপ্লিকেশনের  জবাব দিচ্ছেন, তার ওপরেই নির্ভর করতে হয়।অর্থাৎ সেই এপ্লিকেশনগুলি আপনাকে বা যে কোনো মানুষকে যে প্রশ্ন গুলি করবে, তার উত্তর কেউ কিভাবে দিচ্ছেন তার ওপারেই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এই ডিভাইসের ক্ষেত্রে যাঁরা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে বা হাসপাতালে চিকিৎসা করাচ্ছেন, তাঁদের মোবাইল বা নেট ঘাঁটা থেকেই তথ্য বেরিয়ে আসবে, আপনার আশেপাশে কে  বা কারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, আর কেই বা রয়েছেন সন্দেহের তালিকায়।
এই ডিভাইস ব্যবহার করতে গেলে আপনাকে মোবাইল ঘাঁটতেও হবে না। এর জিওফেনসিং প্রযুক্তি আপনাকে রাস্তাঘাটে জানান দেবে, আপনার আশেপাশে কোথায় কোথায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টার রয়েছে। রিস্টব্যান্ডে থাকা এই ডিভাইস আপনাকে নিখুঁতভাবে বলে দিতে পারবে আপনার আশেপাশে কে কে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আবার এই ডিভাইস আপনি ঘড়ির মত ব্যবহার করতেও পারবেন। 
তাছাড়া পাবেন আপনার তাপমাত্রা, পালস এবং রেসপিরেটরি ও শরীরে অক্সিজেন মাত্রার রিপোর্টও।. আপনি নিজেই যদি কোয়ারেন্টাইন থাকেন, তাহলে অনায়াসে এই সব মেডিকেল তথ্য আপনার চিকিৎসক পেয়ে যাবেন আপনার কাছে থাকা এই ডিভাইস থেকেই। এই তথ্যগুলি আবার আপনি প্রয়োজনে সেভ করেও রাখতে পারবেন। এই অসাধারন প্রযুক্তি আবিস্কারের পিছনে রয়েছেন নাগপুরের ডক্টর ময়ূর পারাটে এবং ডক্টর অঙ্কিত ভুরানে। 

Friday, July 17, 2020

এবার প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন

দেশ

মেডিকেল নিউজ প্লাস, নতুন দিল্লী, ভারত, ১৮/০৭/২০২০ : গতকালই ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন।
দেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় আমাদের দেশে মোট ৩৪,৮৮৪ জন মানুষ নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এখনো পর্যন্ত আমাদের দেশে মোট ১০,৩৮,৭১৬ জন মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে এই মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন  হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসারত রয়েছেন মোট ৩,৫৮,৬৯২ জন মানুষ। এখনো পর্যন্ত চিকিৎসা করানোর পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন মোট ৬,৫৩,৭৫১ জন মানুষ। তাঁদেরকে হাসপাতাল থেকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট ৯৭১ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এখনো পর্যন্ত আমাদের দেশে করোনা সংক্রামিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ২৬,২৭৩ জন মানুষ। 
আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস সবচেয়ে খারাপভাবে প্রভাব ফেলেছে মহারাষ্ট্র রাজ্যে। এই রাজ্যে এখনো পর্যন্ত মোট ২,৯২,৫৮৯ জন মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১১,৪৫২ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা নিরিখে  দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু। দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে এখনো পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন মোট ২,৩১৫ জন মানুষ। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১,৬০,৯০৭।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে দেশের রাজধানী দিল্লীর নাম। এখানে এখনো পর্যন্ত মোট ১,২০,১০৭ জন মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩,৫৭১ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। 
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আমাদের রাজ্য, পশ্চিমবঙ্গে এখনো পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩৮,০১১ জন মানুষ, যার মধ্যে ১৪,৭০৯ জনের চিকিৎসা চলছে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালগুলিতে। রাজ্যে এখনো পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়ে যাওয়ার সংখ্যা ২২,২৫৩, তবে এখনো পর্যন্ত মোট ১,০৪৯ জন মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এই রাজ্যে। 
দেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক আজ জানিয়েছে, গতকাল অর্থাৎ ১৭ই জুলাই পর্যন্ত মোট ১,৩৪,৩৩,৭৪২ জন মানুষের দেহে কোরোনার টেস্ট করা হয়েছে। গতকাল টেস্ট করা হয়েছে মোট ৩,৬১,০২৪ জন মানুষের শরীরে।

যোগ ও ধ্যানাভ্যাস করোনা প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে, বলছেন দুই গবেষক

বিদেশ

মেডিকেল নিউজ প্লাস, ১৭/০৭/২০২০ : করোনা ভাইরাসের সাথে লড়াই করতে হলে চিকিৎসা যেমন দরকার, তার পাশাপাশি যোগ এবং ধ্যানাভ্যাস ততটাই দরকার বলে মনে করছেন সান ডিয়াগোর ক্যালিফোর্নিয়ার ভারতীয় গবেষক শ্রী দীপক চোপড়া এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এবং হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম বুশেল। 
'দ্য জার্নাল অফ অল্টারনেটিভ এন্ড কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিন' নামে একটি জার্নালে এই দুই গবেষক বলেছেন, নিয়মিত যোগা এবং ধ্যানাভ্যাস করোনা রোগকে প্রতিহত করতে সাহায্য করে। এই দুই গবেষকদের বক্তব্য, "যদি আপনার প্রতিদিন নিয়ম করে যোগা করার অভ্যাস থাকে, বিশেষত, তার মধ্যে যদি প্রাণায়াম করার অভ্যাস থাকে তাহলে আপনার শ্বাসনালী পরিস্কার থাকে, নিয়মিত যোগাভ্যাস যে কোনো ভাইরাসের সাথে লড়াই করার জন্যে শরীরকে বাড়তি শক্তি যোগান দেয়। শরীরের ইমিউনিটি বাড়িয়ে রাখে। সেই ইমিউনিটি করোনা ভাইরাসের মত রোগের  বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্যেও শরীরকে বাড়তি রসদ যোগায়।"
"প্রতিদিন যদি আপনার ধ্যান বা মেডিটেশন করার অভ্যাস থাকে, তাহলে সেই অভ্যাস আপনার মনকে শান্ত করে এবং মনকে দৃঢ় করে। করোনা ভাইরাসের সাথে লড়াই করার জন্যে যে আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজন হয়, তা নিয়মিত ধ্যানাভ্যাসের মধ্যে দিয়ে অনায়াসে  অর্জন  করা যায়। তাই সাধারণত যাঁরা নিয়মিত যোগা করেন বা ধ্যানাভ্যাসের মধ্যে দিয়ে চলেন, তাঁদের শরীরে ভাইরাস চট করে বাসা বাঁধতে পারে না। আর ভাইরাস আক্রমন করলেও খুব সহজেই তা প্রতিহত করা সম্ভব" বলে জার্নালে দাবী করেছেন এই দুই গবেষক।