Wednesday, July 14, 2021

মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন থেকে বাঁচুন

মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন থেকে বাঁচুন


মেডিকেল নিউজ প্লাস, 14/07/2021 : আজকাল আমরা সবাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করি, আর এটাও জানি যে মোবাইল ফোনের একটা রেডিয়েশন আছে যা কিনা আমাদের শরীরের পক্ষে বেশ ক্ষতিকর। তা সত্ত্বেও আমরা সারাদিন ধরে মোবাইল ফোন আঁকড়ে থাকি।

মোবাইল ফোনের এই রেডিয়েশন থেকে আমাদের নিস্তার নেই। কিন্তু কিছু নিয়ম পালন করলে মোবাইল ফোনের এই রেডিয়েশন থেকে কিছুটা হলেও আমরা নিজেদেরকে বাঁচাতে পারি। আসুন সেগুলো এবার জেনে নিই। 

প্রথমত, মোবাইল ফোনটিকে শরীর থেকে যতটা সম্ভব দুরে রাখুন। কথা বলার সময় হেড ফোন ব্যবহার করুন। না হলে স্পিকার ফোন ব্যবহার করুন।

দ্বিতীয়ত, একসাথে অনেক্ষন ধরে ফোনে কথা বলবেন না। দরকারে টকিং লিমিট দিয়ে রাখুন, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের পর ফোন আপনা আপনি কেটে যায় । ভয়েস কলের বদলে যতটা সম্ভব টেক্সট মেসেজ করুন। 

তৃতীয়ত, বদ্ধ ঘরে বা ছোট ঘরে দরজা জানলা বন্ধ করে ফোন ব্যবহার না করাই ভাল। এমনকি গাড়ির সব জানলার কাঁচ তুলে দিয়ে বেশিক্ষণ ফোন ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে ফোনের রেডিয়েশন অনেক বেশি ক্ষতি করে।

চতুর্থত, মোবাইলের ব্যাটারি কমজোর থাকলে রেডিয়েশন বেশি থাকে। নেটওয়ার্ক ঠিক নেই, ঠিকমত শোনা যাচ্ছে না, কথা কেটে কেটে যাচ্ছে এমন অবস্থায় খুব প্রয়োজন না থাকলে মোবাইল ব্যবহার না করাই ভাল। 

পঞ্চমত, শিশুদের ওপর মোবাইলের রেডিয়েশন বেশ প্রভাব ফেলে। তাই শিশুদের আব্দার দুরে সরিয়ে রেখে মোবাইল ফোনকেও তাসের থেকে দুরে রাখতে হবে। গর্ভবতী মহিলাদের থেকেও মোবাইল ফোনকে দুরে রাখতে হবে। 

এছাড়া আপনার ফোনের রেডিয়েশন ঠিক কত তা জেনে নিন *#07# এ ফোন করে। এটা হল SAR Value. যা হওয়া উচিত 2.0w/kg.এর কম। অর্থাৎ মানব শরীরের প্রতি কিলোগ্রাম ওজনে কতটা রেডিয়েশন আছে, সেটা বোঝা যায়। ভারতে এই মাত্রা 1.6 এ বাঁধা আছে।অনেকেই আছেন ফোন হারাবার ভয়ে ফোন সব সময় শরীরের খুব কাছে রাখেন অথবা পকেটে রাখেন সব সময়। মোবাইল ফোন সারাদিন শরীরের কাছাকাছি না রেখে যথা সম্ভব দুরে রাখুন। এমনকি রাতে ঘুমোনোর সময় বালিশের নিচে বা বিছানাতেই রাখবেন না। পারলে রাতে মোবাইল ফোনের সুইচ অফ করে রাখুন।

সব রকম ফল একসাথে খাওয়া যায় না কেন ?

সব রকম ফল একসাথে খাওয়া যায় না কেন ?


মেডিকেল নিউজ প্লাস, 14/07/2021 : অনেকেই ফল খেতে বেশ পছন্দ করেন অনেকেই আবার ফলাহার করেন অর্থাৎ ফল খেয়েই পেট ভরিয়ে ফেলেন। কিন্তু জানেন কি সব রকম ফল একসাথে খাওয়া ঠিক নয় ? তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই এবার জেনে নিন ফল খাওয়ার নিয়ম কানুন।

ফল বেশ পুস্টিকর খাদ্য হলেও একসাথে সব রকম ফল খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। ফল খাওয়ার সময় ফলগুলিকে ভাগ করুন তিন ভাগে। মিষ্টি ফল, টক ফল এবং দুটোর কোনোটাই নয় এমন ফল। টক ফলের সাথে মিষ্টি ফল মিশিয়ে খাওয়া উচিত নয়। আঙুর, আপেল, পেযারার সাথে কলা বা কিসমিস খাওয়া ঠিক নয়।

যখন তরমুজ খাবেন তখন শুধু তরমুজই খান, অন্য ফল মিশিয়ে খাবেন না। কারন তরমুজ ফলটিতে জলের ভাগ থাকে অনেক বেশি। ফলে তরমুজ যত তাড়াতাড়ি হজম হবে, অন্য ফল তত তাড়াতাড়ি হজম হবে না। ফলে পেটে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

ফল খাওয়ার সময় সব্জি খাওয়াও উচিত নয়। ফল দ্রুত হজম হয়। সব্জি অনেকটা পরে হজম হয়। আবার ফলে শর্করা বেশি থাকে যা সব্জি হজমের ক্ষেত্রে বাধার কারন হয়ে উঠতে পারে। তাই আপেল খেতে খেতে গাঁজর খাওয়া ঠিক হবে না। এতে গ্যাস, বমিভাব এবং মাথা যন্ত্রণাও অনুভূত হতে পারে।

স্টার্চ আছে এমন খাবারের সাথেও ফল খাওয়া ঠিক নয়। যেমন আলু, ভুট্টা বা পানিফলের সাথে পেয়ারা, আপেল খাওয়া ঠিক নয়। কেননা প্রোটিন জাতীয় খাবার হজম করতে চাই এসিড বেস এবং স্টার্চ জাতীয় খাবার হজম করতে লাগে এলকালাইন বেস। তাই এই দুই রকম খাদ্য একসাথে গ্রহণ করা ঠিক নয়। 

রাতের খাবারে প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া হলে পরের দিন সকালে একটু পেঁপে খান । কারন পেঁপেতে থাকে প্যাপেইন, যা প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে।

Tuesday, July 13, 2021

রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া খুব জরুরী

রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া খুব জরুরী


মেডিকেল নিউজ প্লাস, 13/07/2021 :   ঘুম মানুষের জীবনে অত্যন্ত প্রযোজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ । রাতের বেলায় 6-7 ঘণ্টার নিশ্চিন্ত ঘুম শরীর এবং মনকে সতেজ রাখে। তাই তরতাজা ও কর্মমুখর থাকতে হলে ঠিকমত ঘুম হওয়াটাও খুব দরকার। শরীরকে বিশ্রাম না দিলে শরীর বিদ্রোহ তো করবেই।

অনেকের আবার অনিদ্রা জনিত সমস্যা থাকে। অনেকে রাত জেগে মোবাইল ফোন ঘাঁটেন, কেউ টিভি দেখেন। তাতে চোখ ও মস্তিস্কের ওপর অত্যাচার করাই হয়। ক্ষতি হয় শরীরের।

ঠিকমত ঘুম না হলে শরীরে রক্তচাপ বাড়তে পারে। ক্ষতি হয় নার্ভেরও। হৃত্পিণ্ড এবং মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায় না। এর ফলে হৃদরোগ, হাইপার টেনশন এবং ব্লাড প্রেসারের সমস্যা তৈরি হয়।

অনিয়মিত ঘুমের ফলে শরীরে ইনসুলিন ক্ষরণ কম বেশি হয়। তাতে ইন্সুলিনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে ডায়াবেটিস বা সুগার হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

ঘুম না হলে বা পর্যাপ্ত পরিমানে না হলে শরীরের ভিতরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুম হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শক্তি বেড়ে যায়।

ঘুম কম হলে হৃত্পিণ্ডের সমস্যা বাড়তে পারে। কেননা ঘুম পর্যাপ্ত পরিমানে হলে হৃত্পিণ্ড এবং মস্তিস্কের একাংশ বিশ্রাম পায়। দীর্ঘদিনের অনিদ্রা হৃদরোগ ডেকে আনে।

এছাড়াও ঘুম ঠিকমত না হলে হজমের সমস্যাও হয়। সুতরাং সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম শরীরকে সুস্থ রাখে আর তাই রাত জাগার অভ্যাস থাকলে এখনই তা বর্জন করুন, তা সে কাজের চাপ যতই থাক না কেন।

মোমোতে সাবধান ! রোজ রোজ মোমো খাবেন না

মোমোতে সাবধান ! রোজ রোজ মোমো খাবেন না


মেডিকেল নিউজ প্লাস, 13/07/2021 : মোমো খেতে আমরা সকলেই বেশ ভালবাসি। ভেজ মোমো হোক বা নন ভেজ মোমো হোক, এক বাটি স্যুপ আর চাটনি দিয়ে টিফিন সেরে ফেলতে আমরা এখন অনেক অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। তিব্বতি খানা এই মোমোর চাহিদা এখন এতটাই তুঙ্গে উঠেছে যে রেস্তরাঁগুলো তো বটেই, পাড়ার মোড় বা অলিতে গলিতে গজিয়ে উঠেছে মোমোর দোকান। মোমোর দাম নিয়েও শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। কিন্তু জানেন কি নিয়মিত মোমো খেলে শরীরের কি কি ক্ষতি হতে পারে ? নিয়মিত মোমো খেলে আমদের শরীরে আট রকম ক্ষয়ক্ষতি হওয়র সম্ভাবনা থাকে। কি সেগুলো ? আসুন জেনে নিন - 

1) মোমো যে ময়দা দিয়ে তৈরি হচ্ছে তাতে কিছু কেমিক্যাল মেশানো থাকে। ময়দার সাথে থাকে azodicarbonamide, chlorine gas, benzoyl peroxide ও অন্যান্য কিছু ব্লিচ। এই কেমিক্যালগুলি প্যাংক্রিয়াসের ক্ষতি করে। ডায়াবেটিস নিয়ে আসতে সহায়ক হয়ে ওঠে।

2) মোমোতে যে মাংস ব্যবহৃত হয়, কম দামে দেওয়ার জন্যেই হোক বা ব্যবসায়িক কারণেই হোক, বেশির ভাগ  সময় সেগুলো বাসি মাংসের কিমা করা থাকে। এগুলো সাধারণত টাটকা জাতীয় মাংস দিয়ে তৈরি হয় না।

3) মোমোর মধ্যে যে আনাজ ব্যবহার করা হয়, তা বেশিরভাগ সময় সতেজ থাকে না। নিম্ন গুণমানের হয়। এই আনাজ্গুলিকে ঠিকমত রান্নাও করা হয় না যার ফলে এই আনাজ্গুলো ইকোলি নামক ব্যাকটেরিয়ার আঁতুড়ঘর হয়ে ওঠে। যা কিনা শরীরে নানান ইন্ফেকশন ছড়ায়।

4) লাল লঙ্কা শরীরের পক্ষে ভাল। কিন্তু যখন সেটা পাউডার ফর্মে নিয়ে আসা হয়, তখন কি আর শরীরের জন্যে ভাল থাকে ? রাস্তার ধারের মোমো স্টল থেকে যে চাটনি দেওয়া হয় মোমোর সাথে, সেই চাটনিতে থাকে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি পরিমান মশলা। যাকে শ্পাইসি বলা যায়। এই ধরনের চাটনি শরীরকে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে।



5) মোমোতে ব্যবহার করা হয় এমএসজি (মোনো সোডিয়াম গ্লূকামেট), যা শরীরকে স্থূল করে তলে। এমনকি নার্ভের অসুখের দিকেও নিয়ে যায়।

6) মোমোর মাংসে থাকে নানারকম টেপ ওয়ার্ম। যে কৃমি মস্তিস্কে গিয়েও হামলা চালাতে পারে। যেহেতু মোমোর মাংস রান্না করা হয় না, শুধুমাত্র সিদ্ধ করা হয়, তাই ঐ ওয়ার্ম অতটা গরমেও মরে যায় না। অবশ্য বীফ বা পর্ক মোমোর ক্ষেত্রেই এই ভয়টা বেশি থাকে। তবে মোমোর ভিতরে থাকা বাঁধাকপি থেকেই টেপ ওয়ার্ম শরীরে চলে যেতে পারে এবং মস্তিস্কে গিয়ে বাসা বাঁধতে পারে।

7) মোমো একটি তিব্বতি খাবার। ঠান্ডার দেশ তিব্বতে মোমো খেয়েও গা গরম করা যায়। ভারতের মত গরম দেশে মোমো খেলে অতিরিক্ত শরীর গরম হয়ে যায়। 

8) আমাদের দেশে কিছু জায়গায় দেখা গিয়েছে মোমোর মধ্যে কুকুরের মাংস কিমা করে দিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ক্রেতার পক্ষে বুঝে ওঠা সম্ভব নয়। 

তাই মোমো অবশ্যই উপভোগ করুন, কিন্তু দেখে নিন যে দোকান থেকে মোমো কিনবেন সেখানকার হাইজিনিক পরিবেশ যেন ভাল হয়। এছাড়াও নিয়মিত না খেয়ে অনিয়মিত মোমো খাওয়াই ভাল।